নেদারল্যান্ডস ও মরক্কোর এই রাউন্ড অব ৩২-এর নকআউট ম্যাচে, আমার বিশ্লেষণ একটি দিকেই কেন্দ্রীভূত—ড্র। এটি কেবল তথ্য ও যুক্তির ওপর ভিত্তি করা একটি সম্ভাব্যতার বিশ্লেষণ, কোনো নিশ্চিত সিদ্ধান্ত নয়; ফুটবল মাঠে কিছুকেই পাকা বলে ধরা যায় না。
মানসিক দিক থেকে, গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হিসেবে নেদারল্যান্ডস স্বাভাবিকভাবেই বেশি প্রত্যাশার ভার বহন করছে, তবে ‘জিততেই হবে’ ধরনের মানসিকতা নকআউট পর্বে অনেক সময় চাপ ও অস্থিরতায় রূপ নিতে পারে। ফি গ্রুপ থেকে উঠে আসা মরক্কোর মানসিকতা একেবারেই আলাদা—তারা আন্ডারডগ, এবং ম্যাচকে দীর্ঘ, খণ্ডিত ছন্দে নিয়ে যেতে তাদের কোনো আপত্তি নেই; এমনকি ম্যাচকে পেনাল্টি পর্যন্তও টেনে নিতে পারে। এই মানসিক ব্যবধানই ড্র-যুক্তির প্রথম ভিত্তি।
পরিসংখ্যানে দেখা যায়, নেদারল্যান্ডস গ্রুপ পর্বের ৩ ম্যাচে ৮ গোল করলেও তা যতটা শক্তিশালী মনে হয়, তার অর্ধেকই এসেছে সেট-পিস থেকে; আর সংগঠিত রক্ষণ ভাঙতে গিয়ে তাদের আক্রমণাত্মক দক্ষতা খুব স্থিতিশীল নয়। অন্যদিকে মরক্কোর ক্ষেত্রে, তাদের রক্ষণাত্মক শৃঙ্খলাই এখন পর্যন্ত সাফল্যের মূল সম্পদ—৪ ম্যাচে মাত্র ২ গোল হজম করেছে, আর মিডফিল্ডার আমরাবাতের ইন্টারসেপশন ও কভারেজ এই আসরে অন্যতম সেরা। ঐতিহাসিক তুলনাও চোখে পড়ার মতো: ইউরোপীয় দলের বিপক্ষে মরক্কোর শেষ ১০ ম্যাচের প্রায় ৪০ শতাংশই ড্র হয়েছে, আর গত বিশ্বকাপে তারা ক্রোয়েশিয়া ও স্পেন—দুই দলকেই ড্র-তে আটকে রেখেছিল। বুকমেকারদের এশিয়ান হ্যান্ডিক্যাপও নেদারল্যান্ডসের হাফ-গোল লাইন থেকে নেমে হাফ-গোল/ওভার হাই লসের দিকে গেছে, যা ৯০ মিনিটের মধ্যে নেদারল্যান্ডসের জয় নিশ্চিত হওয়ার ব্যাপারে বাজারের আস্থা কিছুটা কমে যাওয়ার ইঙ্গিত দেয়।