বিশ্বকাপ বি গ্রুপের দ্বিতীয় রাউন্ডে কানাডা ভ্যাঙ্কুভারে কাতারের মুখোমুখি হবে। দুই দলই নিজেদের প্রথম ম্যাচে ১-১ ড্র করেছে, এবং ইতিহাসে প্রথমবার বিশ্বকাপে পয়েন্ট পেয়েছে। এই ম্যাচের বিজয়ী প্রায় নিশ্চিতভাবেই পরের পর্বে ওঠার দৌড়ে এগিয়ে যাবে—চার দলেরই ১ পয়েন্ট করে থাকা পরিস্থিতিতে ৩ পয়েন্ট বিশাল সুবিধা এনে দেবে।
কানাডার আধিপত্য চোখে দেখেই বোঝা যায়। প্রথম ম্যাচে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার বিপক্ষে কানাডা ১৭টি শট নেয়, বল দখল ও পাসের সংখ্যায়ও স্পষ্টভাবে এগিয়ে ছিল; ফিনিশিং দক্ষতা একটু ভালো হলে স্কোরলাইন ১-১ থাকত না। জনাথন ডেভিড, বুকানান ও লারিনের গঠিত আক্রমণভাগের ত্রয়ী গতি ও শারীরিক শক্তিতে কাতারের রক্ষণভাগকে সম্পূর্ণ চাপে ফেলতে সক্ষম। সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে কানাডা টানা ৯ ম্যাচে অপরাজিত, আর বিশ্বকাপে নতুন দলগুলোর মধ্যে তাদের স্থিতিশীলতা আলাদা নজর কেড়েছে।
কাতার প্রথম ম্যাচে সুইজারল্যান্ডের সঙ্গে ১-১ ড্র করলেও, খেলার ধরন ফলের তুলনায় অনেক বেশি নাজুক ছিল। পুরো ম্যাচে সুইজারল্যান্ড একাধিকবার আক্রমণ শানায়, আর সমতাসূচক গোলটি আসে প্রতিপক্ষের আত্মঘাতী গোল থেকে, নিজেদের আক্রমণ থেকে নয়। গোলরক্ষক আবুনাদা ৫টি সেভ করলেও, কানাডার আক্রমণভাগের চাপ সুইজারল্যান্ডের তুলনায় অনেক বেশি—সুইসরা ম্যাচজুড়ে ৭০ শতাংশের বেশি বল দখলে রাখলেও শেষ পাসে বারবার ভুল করেছে, যার ফলে কাতার কিছুটা স্বস্তি পেয়েছে। কানাডার বিপক্ষে কাতারের জন্য এমন ভাগ্য আর মিলবে না।
এই ম্যাচের সবচেয়ে স্পষ্ট ইঙ্গিত হলো এশিয়ান হ্যান্ডিক্যাপ। প্রাথমিক লাইন ছিল এক গোল, কিন্তু ম্যাচের আগে তা সরাসরি দেড় গোলে উঠে গেছে—এটি শক্তির ব্যবধানের পরিমিত প্রকাশ। কানাডার পেছনে থাকবে প্রায় ৫০ হাজার স্বাগতিক দর্শকের সমর্থন—বিসি প্লেসের গর্জন যে কোনো সফরকারী দলকে দমবন্ধ করে দিতে পারে। কাতারের প্রায় সব ফুটবলারই নিজ দেশের লিগে খেলে, এবং তারা এমন মানের অ্যাওয়ে চাপের মুখে আগে কখনও পড়েনি। আরেকটি পরিসংখ্যানও কানাডার একচ্ছত্র প্রাধান্যকে সমর্থন করে: কানাডার দলে একাধিক ফুটবলার পাঁচ বড় লিগে খেলে, পুরো দলের বাজারমূল্য প্রায় ২০ কোটি ইউরো; অন্যদিকে কাতার দলের বাজারমূল্য ২ কোটি ইউরোরও কম, যা কানাডার তুলনায় প্রায় নগণ্য।
দুই দলের একমাত্র মুখোমুখি লড়াই ছিল ২০২২ সালের প্রীতি ম্যাচে, যেখানে কানাডা ২-০ ব্যবধানে জিতে যায়। সেই ম্যাচে গোল করেছিলেন লারিন ও ডেভিড, এবং দুজনই এবারের স্কোয়াডে আছেন। এই ম্যাচের ফলও সম্ভবত একই স্কোরলাইনের পুনরাবৃত্তি হবে।
সবকিছু মিলিয়ে, কানাডার ঘরের মাঠে বড় জয়ই একমাত্র যৌক্তিক পরিণতি।
এশিয়ান হ্যান্ডিক্যাপ পরামর্শ: কানাডা মাইনাস ১.৫।